This is default featured slide 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured slide 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured slide 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured slide 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured slide 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Arafat Hossain Shifat - Biography



Arafat Hossain Shifat is a Bangladeshi Musician Artist, Cyber Security Specialist & Famous Content Creator On YouTube who has made a big name in the music platform. Since adulthood, he had a keen interest in trying new things. He is the son of Anwar
Hossain Akash. He was born in Rangpur, Bangladesh on 30 August 2005.


He brought up Rangpur Saddar, Rangpur, Bangladesh and finished tutoring here.At the age of 15 he started his Cyber Security Specialist or Ethical Hackings & Musician career. He always dream to make something artistic that will retain me in the heart of millions. He was passed "JSC" at Modern Publics School.


He also verified on other music platforms.


From adulthood, he wanted to do something different. He is a good writer also. He is most famous as a social media influence but professionally he is an entrepreneur who has made a big name in the digital marketing and social media world.

He said, "I am an ordinary person from the city. My reputation today, my acquaintance has been made possible by my hard work and perfect acting in winning the hearts of the audience. Then this love will never be forgotten. I have wanted to work in media since my childhood." And to be known all over the country. I feel established and blessed to be able to do that today.

Share:

ছায়া


রাত বাজে ৪টা.....

ঘুম আসছে না অন্তুর। হঠাৎ করেই মাথাটা ভীষণ রকম ধরেছে তার। প্রচন্ড মাথাব্যথায় চোখ দুটো বন্ধ হতে যাচ্ছে, ঠিক সেই সময় কে যেনো নাম ধরে ডাকছে তাকে। অন্তু কিছুটা অবাক হলো। এত রাতে তাকে আবার কে ডাকছে? বিছানা থেকে উঠে বসলো অন্তু, কিন্তু দরজা খুললো না সে। ছোটবেলায় দাদীর কাছে নিশিভুতের গল্প শুনেছিলো অন্তু। যারা অনেক রাতে নাম ধরে ডাকে। আর তাদের ডাকে সাড়া দিলেই বিপদ।

কিছুক্ষণ পরেই একটি কালো ছায়া দেখতে পেল অন্তু। ধীরে ধীরে তার দিকেই এগোচ্ছে সেই ছায়াটা। এবার কিছুটা ভয় পাওয়া শুরু হলো অন্তুর। রাত চারটায় কুচকুচে কালো একটা ছায়া যদি নিজের দিকে আসতে শুরু করে তাহলে ভয় পাবে না কেন সে? ধীরে ধীরে ছায়াটা অন্তরের অনেক কাছাকাছি চলে আসছে আর বড় হতে শুরু করছে। এবার ছায়াটা অনেকটাই কাছে চলে এসেছে তার। ছায়াটার হাতে স্পষ্ট একটি ধারালো ছুরি দেখা যাচ্ছে। অন্তু আর অপেক্ষা না করে চিৎকার করার চেষ্টা করলো। কিন্তু তার মুখ থেকে একটুও আওয়াজ বের হচ্ছে না। অতিরিক্ত ভয় পেলে হয়তো এমন হয়। দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করবে অন্তু। কিন্তু সে কিছুতেই তার শরীর নাড়াতে পারছে না। মানুষের শরীর প্যারালাইজড হলে যেমনটা হয়, ঠিক বর্তমানে তেমনটাই হচ্ছে অন্তুর সাথে। তারপরও সে অনেক চেষ্টা করছে পালাবার। কিন্তু কোনো কাজ হলো না, ছায়াটা এবার হাতের নাগালেই চলে এসেছে। হাতে থাকা ধারালো ছুরিটা দিয়ে আঘাত করলো না ছায়াটা। বরং খুব যত্ন করে ছুরিটা তুলে দিলো অন্তুর হাতে। আমরা সাধারণত ছায়াকে যেমনটা দেখি, এই ছায়াটা সেরকম নয়। এই ছায়া কুচকুচে কালো হলেও, ছায়াটা যে মুচকি হাসছে তা যে স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছে অন্তু।

হঠাৎ করেই ছায়াটা বলে উঠলো, "এ জীবন রেখে কি হবে অন্তু?" অন্তু এবার অনেক ঘাবরে গিয়েছে। সে মনে মনে ভাবছে, "ছায়ারা কথা বলতে পারে?" ছায়াটা এবার চিৎকার করতে করতে বললো, "এ জীবন রেখে কি হবে অন্তু? শেষ করে দেও নিজেকে। মুক্ত করে দেও নিজে জীবনকে। কেউ তোমায় কখনো ভালোবাসিনি অন্তু।"

কথাটা শুনে কেমন জানি হয়ে গেলো অন্তুর। মানুষ যখন অতিরিক্ত কষ্ট পায়, ঠিক তেমন অনুভূতি হলো তার। তারপর অন্তু চিৎকার করে বলে উঠে, "হ্যাঁ, আমি শেষ করে দিবো আমার জীবন! আমি চাই না এভাবে বেঁচে থাকতে।" এই বলেই ধারালো অস্ত্রটা দিয়ে নিজেই নিজের গলায় সজোরে আঘাত করলো সে। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো পৃথিবী অন্ধকার হয়ে যেতে লাগলো তার কাছে। টকটকে লাল রক্তে মেখে গেল রুমের পুরো ফ্লোর। নিস্তব্ধ হয়ে গেল চারপাশ।


সকাল ৭টা.....

দরজায় কড়া নাড়ছে অন্তুর মা তানিয়া ইসলাম। এখন পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ বার অন্তুর নাম ধরে ডেকেছেন তিনি। কিন্তু ভিতর থেকে কোন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না ছেলেটার। এক সময় বিরক্ত হয়েই দরজার সামনে থেকে চলে যান তানিয়া।

অন্তু প্রতিদিন ভোর ৫টায় ঘুম থেকে ওঠে। আজ সাতটা বেজে গেছে এখনো কোনো খবর নেই অন্তুর। আধা ঘণ্টা পর দরজার সামনে এসে আবার ডাকাডাকি শুরু করেন অন্তুর মা। এখনো কোনো জবাব আসছে না রুমের ভিতর থেকে। তানিয়া ইসলাম এবার কিছুটা ভয় পেয়ে যান। তিনি দ্রুত বিষয়টা জানান অন্তুর বাবা রাকিব ইসলামকে। তিনি ছুটে আসেন অন্তুর রুমের দিকে। এসে রাগান্বিতভাবে বলতে থাকেন "এই অন্তু দরজাটা খুলো।" কিন্তু দরজার ওপাশ থেকে অন্তর কোন জবাব আসে না। এবার বেশ ঘাবড়ে যান অন্তুর বাবা-মা। ঘরে চেচামেচি শুনে ছুটে আসেন অন্তুর বড় ভাই রনি। এসে সে আর দেরি না করে দরজা ভাঙার জন্য চেষ্টা করতে থাকে। কিন্তু কিছুতেই ভাঙছে না দরজাটা। মোটা কাঠ দিয়ে তৈরি এই একতলা বাসার সবগুলো দরজা। যার কারণে দরজা ভাঙতে সমস্যা হচ্ছিল অন্তুর বড় ভাই রনির। রাকিব সাহেব এবার সাহায্য করে রনিকে। দু'জন মিলে ধাক্কা দেওয়া শুরু করে দরজায়। কিছুতেই ভাঙছে না। চেষ্টা চালিয়ে যায় তারা। গোটা দশবার চেষ্টা করার পরে এবার দরজা ভাঙতে সফল হন তারা।

রুমে ঢুকেই সবাই পায়ের নিচে স্যাঁতসেঁতে অনুভূতি হয়। সামনে তাকাতেই তারা দেখতে পায়, রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় শুয়ে আছে অন্তু। নিচে তাকিয়ে দেখে লাল টকটকে রক্তে পুরো ফ্লোর ভরে গেছে। এ অবস্থা দেখে মাথা ঘুরে পড়ে যান অন্তুর মা। মাকে ধরতে ছুটে আসেন রনি। মাকে সোফায় বসিয়ে রেখে পানি আনতে যায় অন্তুর বড় ভাই।

এদিকে গলা কাটা অন্তুকে দেখে দ্রুত কোলে করে বাইরে নিয়ে যায় রাকিব সাহেব। রাকিব সাহেবের নিজের একটি চার চাকার গাড়ি আছে। সেটিতে করেই অন্তুকে হাসপাতালে নিয়ে যান অন্তুর বাবা। হাসপাতালে গিয়েই ডাক্তার অন্তুকে নিয়ে যান আইসিইউতে। তানিয়ার জ্ঞান ফিরলে রনি তাকে নিয়ে দ্রুত চলে আসে হাসপাতালে।

অন্তু এখন আইসিইউতে ভর্তি। প্রায় ৩ ঘন্টা ধরে চলছে অপারেশন। এখনো বেঁচে আছে ছেলেটা, তবে জ্ঞান ফিরেনি তার। বাবা-মায়ের ইচ্ছে ছিলো একটা মেয়ে নেওয়ার, কিন্তু হলো ছেলে। আর সেই ছেলেটাই পরিবারের অপছন্দের অন্তু। ছোট থেকেই একটু চঞ্চল ছিলো ছেলেটা। বাবা-মায়ের প্রতিদিনের ঝগড়া অপছন্দ ছিলো অন্তুর। বড় ভাই রনি আবার এগুলো পাত্তা দিতো না। সে নিজের ক্যারিয়ার গোছাতেই ব্যস্ত থাকতো সারাটাদিন। রনি ছোট থেকেই অনেক মেধাবী ছিলো। সে ছোট থেকে এখন পর্যন্ত ক্লাস টপার। অপরদিকে অন্তুর মেধা তুলনামূলক কম ছিলো। সে ক্লাসের সবচেয়ে দুর্বল ছেলেদের একজন। স্কুলে যেতে চাইতো না ছেলেটা। কারণ জানতে চাইলে সবসময় ভালো লাগেনা বলেই চালিয়ে দিতো। কাউকেই বলতো না মনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কষ্ট গুলো। স্কুলে স্যার ম্যাডামের বকা, সহপাঠীদের ট্রলের শিকার, আরও অনেক কিছু সহ্য করতে হতো তাকে। যার কারণেই স্কুল খুব একটা যাওয়া হতো না তার।

ছোটবেলা থেকেই অন্তুর ইচ্ছে ছিলো একজন বড় মাপের চিত্রশিল্পী হওয়ার। তার মত আর্ট পুরো স্কুলের কেউ পারতো না। সে পড়ালেখার দিক থেকে লাস্ট হলেও আর্টের দিক থেকে ফাস্ট। কিন্তু বাবার চাওয়া বড় ছেলেকে ইঞ্জিনিয়ার বানাবে আর ছোট ছেলেকে ডাক্তার। যার ফলে এই প্রতিভা কখনো কাজে লাগাতে পারিনি অন্তু। পরিবারের সবার হাতে মার খাওয়া তার দৈনন্দিন খাবারের মত হয়ে গেছে। প্রতিদিন মায়ের কাছে শুনতে হয় তাকে জন্ম দিয়ে পাপ করেছে তার মা তানিয়া। ছোটবেলায় মরে গেলেই ভালো হতো তাদের পরিবারের জন্য। বাবার কাছেও শুনতে হয় অনেক কথা। তিনি নাকি তার জন্য কারো সামনে মুখ দেখাতে পারেনা। ফ্যামিলির মান সম্মান নাকি অন্তুর জন্য শেষ হয়ে যাচ্ছে। বড়ভাইয়ের কাছে শুনতে হয়, সে তার জন্য প্রতিনিয়ত ট্রলের শিকার হয় তার বন্ধুদের কাছে। এসব আর মেনে নিতে পারে না অন্তু। ছোটবেলা থেকেই চঞ্চল স্বভাবের ছেলেটা এক সময় এসে চুপচাপ হয়ে যায়। কারো সাথে কথা বলে না, ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করে না, রাতে ঘুমায় না ঠিকমত, অন্ধকারে থাকাকে বেছে নেয় সব সময়।


রাত ২টা.....

১৮ ঘন্টা ধরে ছেলেটা অজ্ঞান অবস্থায় হাসপাতালের আইসিইউতে পড়ে আছে। পুরো হাসপাতালে নেমে এসেছে নীরবতা। সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছে অন্তু। আশেপাশে কেউ নেই তার। হাত-পা সমানে ছড়াছড়ি করছে ছেলেটা। দেখে বোঝা যাচ্ছে বুকের ভিতর খুব কষ্ট হচ্ছে তার। হঠাৎ করেই নিশ্চুপ হয়ে গেল ছেলেটা। "অন্তু, অন্তু" বলে কে যেন ডাকছে তাকে। হ্যাঁ, সেই ছায়াটা। অন্তু আবারো দেখতে পেয়েছে তাকে। কালো কুচকুচে ছায়া, যে অন্তুর সাথে কথা বলে। দেখতে অনেক অদ্ভুত। হাঁটতে হাঁটতে অন্তর কাছে এসে দাঁড়ালো ছায়াটা। ছায়াটা হাসতে হাসতে বারবার অন্তুকে বলছিল "তুই হার মানলি, নিজেকে শেষও করতে পারলিনা তুই। তোর কাজ এখনো অসমাপ্ত"। তারপর চোখের পলকে অট্টহাসির সাথে উধাও হয়ে গেলো ছায়াটা। দু চোখ খুলে গেল অন্তুর। ১৮ ঘন্টা পর জ্ঞান ফিরেছে ছেলেটার। জ্ঞান ফিরেই তার বারবার একটা কথাই মনে পড়ছে। "তার কাজ এখনো অসমাপ্ত। তাকে দ্রুত সমাপ্ত করতে হবে কাজটা"।



ছায়া_30-03-2024

আরাফাত হোসেন শিফাত

Share:

অসমাপ্ত সুর



জানালার পাশে বসে কান্না করছে তিথি। চোখে মুখে ভয়ের ছাপ। দেখেই বোঝা যাচ্ছে, ভয়ের কিছু দেখেছে মেয়েটা। কিছুক্ষণ আগে ঘুমিয়ে ছিল তিথি। হঠাৎ এক দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে উঠেছে সে। স্বপ্নে যেটা দেখেছে, তা তার পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। যার কারণেই কান্নায় ভেঙে পড়েছে মেয়েটা।

পুরো নাম তিথিয়া ইসলাম। বাবা আদর করে তিথি বলে ডাকতেন। বাবা-মায়ের আদরের একমাত্র সন্তান তিথি। বয়স সবেমাত্র আঠারোতে পা দিয়েছে। তিথির ছোটবেলা কেটেছে যুগিয়া নামের ছোট্ট একটা শহরে। বাবা-মায়ের সাথেই থাকত সে। দোতলা বাসার নিচ তলায় দাদীর সাথে থাকত তিথিরা। তিথির দাদা মারা গেছেন বছর দুই-এক আগে। তিথি অনেক ভালো গান করত। তার স্কুলে গানের প্রতিযোগিতায় ৫ বার প্রথম স্থান অর্জন করেছিল সে। তার গান যে-ই শুনত, মুগ্ধ হয়ে তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকত। আর মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকবেই না কেন? তার মিষ্টি মধুর কন্ঠে গান শুনলে যে সবার প্রাণ জুড়িয়ে যেত। তিথির জন্মদিনে তার বাবা খুশি হয়ে তাকে একটা হারমোনিয়াম উপহার দিয়েছিলেন।

তিথির বাবা রবিউল ইসলাম একজন সৎ ও পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন। বাসার পাশের একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করতেন। মাস শেষে যে অল্প টাকা পেতেন, তা দিয়েই সুন্দরভাবে চলত তাদের ছোট্ট সংসার। তিথির মা আফিয়া ইসলাম গৃহকর্তী ছিলেন। রান্না-বান্না ও মেয়ের দেখাশোনাই ছিল তার দৈনন্দিন কর্ম।

কিন্তু নির্মম ভাগ্যের পরিহাসে ৫ বছর আগে তিথির মা-বাবা মারা যান। তিথির চোখের সামনেই ঘটেছিল এই বেদনাদায়ক ঘটনা। সেই শোকের তীব্রতা এখনো কাটেনি তার মন থেকে।

তিথি যে দেশের নাগরিক, তার নাম বারখাদা। ছোট্ট দেশ হলেও জনসংখ্যা কম নয়। বারখাদাতে জনসংখ্যা ২২ কোটিরও বেশি। বেশিরভাগ মানুষই ইসলাম ধর্মাবলম্বী। যারা আল্লাহকে বিশ্বাস করে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এখানে ভ্রাতৃত্ববোধের পরিবর্তে বিরাজ করে বিদ্বেষ ও ক্ষতিকর প্রতিযোগিতা।

রাসুল (সাঃ) যে ঐক্যবদ্ধ জাতির কথা বলেছিলেন, বারখাদার মানুষ তা ভুলে গেছে। ভুলে গেছে শৃঙ্খলার গুরুত্ব। এক নেতার আনুগত্যের কথাও তাদের কাছে অজানা। হাজার হাজার দলে বিভক্ত হয়ে একে অপরকে কাফের ফতোয়া দেওয়াতেই ব্যস্ত তারা। মুসলিম হিসেবে পরিচয় দিয়ে তুচ্ছ বিষয় নিয়েই শুরু করে দাঙ্গা-হাঙ্গামা। এই সহিংসতায় কত নিরীহ মানুষই না প্রাণ হারায়! তাদের পরিবারের ভবিষ্যৎ হয়ে পড়ে অনিশ্চিত। তিথির পরিবারও এরই শিকার।


৭ জানুয়ারি ২০২১

দেশের সর্বত্র চলছে ভয়াবহ দাঙ্গা-হাঙ্গামা। লুটপাট, হানাহানি, রক্তপাতে ছেয়ে গেছে সারা দেশ। এই ঘটনার সূত্রপাত গতকাল রাতে একটি ওয়াজ মাহফিলে উস্কানিমূলক বক্তব্য থেকে। সেখানে ছোট্ট এক হাতাহাতির ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে পুরো দেশজুড়ে। আজ সকাল থেকেই শুরু হয়েছে দু'পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

আজ তিথির ১৩তম জন্মদিন। এই বিশেষ দিনটি উদযাপন করার জন্য সে তার নানা-নানির বাসায় যাচ্ছিল। বাসে যাত্রা করার কিছুক্ষণ পরই যানজটে আটকে পড়ে তাদের গাড়ি। তিথির জন্য খাবার কিনতে নামেন বাবা রবিউল ইসলাম।

দোকানে খাবার কিনতে কিনতে রবিউল সাহেব দেখতে পান, একটু দূরেই দু'দল কোনো বিষয় নিয়ে ঝামেলা শুরু করেছে। দূর থেকে তাদের পোশাক দেখে বোঝা যাচ্ছে, তারা মাদ্রাসার ইমাম এবং তাদের ছাত্র। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকায় রবিউল সাহেব স্পষ্টভাবে শুনতে পাচ্ছেন দু'পক্ষের ইমাম একে অপরকে কাফের ফতোয়া দিচ্ছেন। হাতে চাপাতি, রামদা সহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে তারা ছাত্রদেরকে উত্তেজিত করছে।

এ ঘটনা দেখে রবিউল সাহেব দ্রুত বাসের দিকে এগিয়ে আসেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, তিনি দুই দলের মাঝখানে আটকে পড়েন। চারপাশ থেকে তাকে আক্রমণ করা হয়। বাস থেকে আফিয়া ইসলাম এই ঘটনা দেখতে পান। তিনি তিথিকে বাসে বসে থাকতে বলে ছুটে আসেন রবিউল সাহেবের কাছে। দুই দলের মাঝে ঢুকে তিনি রবিউল সাহেবকে বাচাতে চান। কিন্তু ঢোকার পর তিনি রবিউল সাহেবকে নিয়ে বের হতে পারছিলেন না।

হঠাৎ করে তিনজন লোক তাদের দিকে ছুটে আসতে শুরু করে। তাদের সবার হাতে ছিলো অস্ত্র। তিথির বাবা-মা ভয়ে চিৎকার করে উঠে। তিনজনের একজন তার হাতে থাকা চাপাতি দিয়ে সজরে আঘাত করে রবিউল সাহেবের ডান হাতের কনুই বরাবর। এক কোপেই তিথির বাবার হাতের অর্ধেকটা মাটিতে পরে যায়। রবিউল সাহেব ও তার স্ত্রী চিৎকার করে বলতে থাকেন, "আমরা কিছু করিনি, আমাদের ছেড়ে দিন!" কিন্তু সেই তিনজন তাদের কথা রাখে না। এবার পাশে থাকা আরেকজন ছেলে একটা কোপ বসিয়ে দেয় রবিউল সাহেবের পা বরাবর। রবিউল সাহেব আর দাঁড়াতে পারছেন না।

তিনি ক্লান্ত এবং আঘাতে জর্জরিত হয়ে পড়েছিলেন। রবিউল সাহেবের এমন অবস্থা দেখে আফিয়া ইসলাম পাশে থাকা একটা ইট নিয়ে ছুটে যান সেই তিনজন লোকের দিকে। কিন্তু তিনজনের চাপাতির সামনে টিকতে পারেন না তিনিও। তাকেও হারাতে হয় তার হাত। সেই তিনজন অনেক আনন্দ পাচ্ছিল। তারা হাসতে হাসতে বলতে লাগল, "জেহাদ করছি। আল্লাহ আমাদের জান্নাতুল ফেরদাউস দান করবেন। আলহামদুলিল্লাহ।"

তারা আর সময় নষ্ট না করে হাসতে হাসতে কোপ বসিয়ে দেয় রবিউল সাহেবের গলা বরাবর। এক মুহূর্তেই দেহ থেকে আলাদা হয়ে যায় রবিউল সাহেবের মাথা। তারপর তারা ছুটে আসে তিথির মায়ের দিকে। তিথির মা চিৎকার করে বলতে থাকেন, "এ কেমন ইসলাম? কোনো নিষ্পাপ মানুষকে খুন করে জেহাদ বলে চালিয়ে দিচ্ছে? এই ইসলাম তো আল্লাহর রসুল অর্ধ পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করেননি। তবে কোথায় এই শিক্ষা পেলো মাদ্রাসার ছাত্ররা?"

তার বলার আরও অনেক কথা ছিল, কিন্তু আফিয়া ইসলাম তা শেষ করতে পারলেন না। কথা শেষ করার আগেই তার মাথাও শরীর থেকে ছিটকে মাটিতে পড়ে গেল। সেই তিনজন এবার তাদের শেষ কাজটি করার অপেক্ষায় রইল। পাশে থেকে একজন প্রেট্রল নিয়ে এসে তিথির বাবা-মায়ের শরীরের উপর ছিটিয়ে দিল। তারপর জ্বালিয়ে দিল আগুন। দাউ দাউ করে আগুন বাড়তে থাকল এবং রবিউল সাহেব ও আফিয়া ইসলামের দেহ দুটি পুড়তে থাকল।

বাস থেকে তিথি কান্নারত অবস্থায় সেই তিনজনের অট্টহাসি দেখছিল। বারবার তিথির মনে হচ্ছে, সে একটা ভয়ানক দুঃস্বপ্ন দেখছে যা ঘুম ভাঙলেই শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু সেই দিনের ঘটনা কোনো দুঃস্বপ্ন ছিল না। দুই দলের লড়াইয়ের মাঝখানে পুলিশ এসে পড়লে দুই পক্ষের লোকজনই পালিয়ে যায়। পুরো রাস্তা ফাঁকা হয়ে যায়। শুধু পড়ে থাকে কিছু মৃতদেহের সাথে তিথির বাবা-মায়ের মাথাবিহীন পোড়া দেহ দুটি। তিথি অনেক চেষ্টা করেছিল তার বাবা-মায়ের কাছে যেতে, কিন্তু পারেনি। বাসের যাত্রীরা তাকে যেতে দেয়নি।

ছেলে এবং ছেলের বউয়ের অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি তিথির দাদী রহিমা ইসলাম। রহিমা ইসলামের মেয়ে না থাকায় তিনি তার ছেলের বউকেই নিজের মেয়ের মতো দেখতেন। তাদের মৃত্যুর খবর শুনে আর নিজেকে সামলিয়ে রাখতে পারেননি তিনি। সেই রাতেই তিথির দাদীর হার্ট অ্যাটাক হয়। ভাটাটিয়ারা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও আর কিছু করা সম্ভব হয় না। তিনিও তার দুই সন্তানের সাথে একই দিনে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন।


১৬ ডিসেম্বর ২০২৬

আজ তিথির স্কুলে বড় একটা অনুষ্ঠান। গানের প্রতিযোগিতাও রয়েছে। কিন্তু তিথির নাম নেই তালিকায়। থাকবেই বা কিভাবে? তিথি যে আর গান গাইতে পারে না। তার সেই মিষ্ট মধুর কন্ঠ কেউ আর শুনতে পারেনা। সেদিনের ঘটনা সরাসরি দেখে মেনে নিতে পারেনি মেয়েটা। প্রচণ্ড রকমের শক খেয়েছিলো তিথি। তারপর কিছুদিন জ্বরের ঘোরের ভিতরেই পরে থাকে মেয়েটা। তার এই জ্বরের মাত্রা এতই তীব্র ছিলো যে তার অনেক ইন্দ্রিয় নষ্ট হয়ে যায়। তারপর থেকেই মেয়েটা আর কথা বলতে পারে না।

তিথি এখন একা থাকতে ভালোবাসে। তার বেশিরভাগ সময় কেটে যায় অন্ধকার ঘরে।

সে এখন তার নানা-নানীর সাথে তাদের বাসায় থাকে। প্রতিদিন বাবা-মায়ের মৃত্যুর এই ঘটনা স্বপ্নে দেখে মেয়েটা। তারপর জানালার পাশে বসে তিথি অঝোরে কান্না করতে থাকে। মনে মনে চিৎকার করে প্রশ্ন করে, "এ কেমন সমাজ, আল্লাহ? আমাকে এ কেমন দুনিয়ায় পাঠালেন আপনি? আপনি তো বলেছেন, যারা আপনাকে অনুসরণ করবে তারা হবে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতি। তারা করবে না কোনো মারামারি, হানাহানি, রক্তপাত। তারা হবে ঐক্যবদ্ধ এবং শৃঙ্খলিত। তারা মানুষকে ভালোবাসবে। কিন্তু বর্তমান সমাজ তো এমন নয়, আল্লাহ! তাহলে কি আমরা আপনাকে অনুসরণ করছি না?"

এই প্রশ্ন করতে করতেই তিথি আল্লাহর কাছে চায় একটা শান্তির ঘুম। এই শান্তির ঘুমের অপেক্ষায় ক্লান্ত মেয়েটি জানালার পাশেই ঘুমিয়ে পড়ে প্রতিদিন।



অসমাপ্ত সুর_28-03-2024

আরাফাত হোসেন শিফাত 

Share:

CONFUSED


যদি ভালোবাসা মানে হয়ে থাকে, তাদের ছাড়া থাকতে না পারা।

তাহলে আমি কাউকে ভালোবাসি না....!

ভোরবেলা একসাথে ফুটবল খেলা মানুষগুলো?

নাহ আমি তাদের ভালোবাসি না....!

সকালে ঘুম থেকে তুলে খেয়ে নিতে বলা মানুষগুলো?

নাহ আমি তাদের ভালোবাসি না....!

দুপুরে খাওয়া হলো কিনা, সময় মত গোসল হলো কিনা খোঁজ নেওয়া মানুষগুলো?

নাহ আমি তাদের ভালোবাসি না....!

ক্লান্ত বিকেলে একসাথে ক্রিকেট খেলা মানুষগুলো?

নাহ আমি তাদের ভালোবাসি না....!

সন্ধ্যা হলেই হোটেলের কেবিনে কিংবা স্কুল মাঠে আড্ডা দেওয়া মানুষগুলো?

নাহ আমি তাদের ভালোবাসি না....!

রাতের বেলা একসাথে টিভিতে খেলা দেখা মানুষগুলো?

নাহ আমি তাদের ভালোবাসি না....!

ব্রাজিল দল সবচেয়ে ভালো নাকি আর্জেন্টিনা, সেটা নিয়ে তর্ক করা মানুষগুলো?

নাহ আমি তাদের ভালোবাসি না....!

রাতে ঘুমানোর আগে খেয়েছি কিনা, সুস্থ আছি কিনা জানতে চাওয়া মানুষগুলো?

নাহ আমি তাদেরও ভালোবাসি না....!

আমি তো তাদেরকে ছাড়া থাকতে পারি।

দিব্বি সময়ও কাটিয়ে দিতে পারি।

তাদের খোঁজ খবর না নিয়েও থাকতে পারি।

তাহলে কি সত্যিই আমি তাদের ভালোবাসি না?



কনফিউজড_23-3-2024

আরাফাত হোসেন শিফাত 

Share:

Copyright Owner - Arafat Hossain Shifat

Copyright Owner - Arafat Hossain Shifat

Share:

Copyright Owner - Arafat Hossain Shifat

Copyright Owner - Arafat Hossain Shifat
Share:

Copyright Owner - Arafat Hossain Shifat

Copyright Owner - Arafat Hossain Shifat
Share:

Unordered List

Support

3/random/post-list